সাকিব ; সেরা থেকে লিজেন্ড হওয়ার গল্প
শনিবার, ১ মে, ২০২১
এক সময় মানুষের মুখে মুখে ছিলো 'বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসান'।এখনো তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জান-প্রাণ। কমতো নয়,;সেই ২০০৬এ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু করেছিলেন, এখনো অবদান রেখেই চলছেন।যে সময়ে বাংলাদেশ কালে-ভদ্রে জিততো সেখান থেকে শুরু।সাকিব শুরুর সাথেসাথে দলে যেনো খেলোয়াড়ও একজন বেড়ে গেল যে বলিং-ব্যাটিং দুইটা দিয়েই দলে থাকতে পারতো। সেটা কতোটা ভালো সেটা বিশ্বকে বুঝালেন,বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার হলেন,২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আইসিসির খেলোয়াড়দের র্যাংকিং অনুসারে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০ প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্করণে প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এক নম্বর অল-রাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।
এখনো তিনি বিশ্বসেরা, বাংলাদেশ দলের মুল পারফর্মার।এর মাঝে বাংলাদেশ আস্তেআস্তে জয়ের পাল্লা বাড়াতে লাগলো,সবাইকে হারাতে শিখলো এবং এখনকার ভয়ডরহীন বাংলাদেশ এর সবধাপেই সমনে থেকে নেত্রীত্ব দিয়েছেন সাকিব। ডজনেরও উপরে টি২০ লিগের দলে খেলেছেন,খেলে চলছেন।মাগুরার এই ছেলে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ১১৫৩৭ রান আর ৫৫৩ উইকেটই তার কথা বলে দেয়।বাংলাদেশের হয়ে তার বহু প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে পর্যাপ্ত সাপোর্টের অভাবে।তার মতো ধারাবাহিক অলরাউন্ডার এই যুগেই আর আসেনি। কেউ কেউতো তাকে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার মনে করেন।
সাকিব সেরা কিন্তু সারাবিশ্বে সবার কাছে লিজেন্ড হতে হলে সেরা সময়ে সেরা কিছু করে দেখাতে হয় যা লিজেন্ডরা করে দেখিয়েছেন।সাকিব মনেহয় এই অপেক্ষাই ছিলেন,তাই সেরা সময় বিশ্বকাপে তেমনই কিছু করে দেখালেন। আট ম্যাচে ৬০৬ রান, ১১ উইকেট সাথে দুর্দান্ত ফিল্ডিংটাতো আছেই।সেরা খেলাটা বিশ্বকাপেই বের করলেন সাকিব আল হাসান। দুই শতককের সাথে পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি, যে ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি মিস করেছেন সেটাতেও চল্লিশের বেশি রান করেছেন।বলিংয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন,গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল করেছেন,মোট উইকেট নিয়েছেন এগারোটি।এই ধারাবাহিকতায় অনেক রেকর্ডে নিজের নামে করে নিয়েছেন,পরিসংখ্যানে অনেক লিজেন্ডকে পেছনে ফেলে দিয়ে নিজেকে উপরের দিকে নিয়ে এসেছেন।
সাকিবের এই ধারাবাহিক খেলা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।সবাই সাকিবের এই লিজেন্ডারি টুনামেন্ট খেলাকে বাহবা দিচ্ছে,তাকে লিজেন্ড বলছে।আসলে সাকিব তার লিজেন্ডারি খেলা দিয়ে সবাইকে লিজেন্ড মানতে বাধ্য করেছে।
সাকিব এখনো খেলছেন। আরো খেলবেন কিছুদিন।কে জানে, আরো কত রেকর্ড নিজের নামে করবেন আরও কত কিছু বলতে বাধ্য করাবেন।
WRITER: আব্দুর রশিদ সুজন