মামলা করে এবার নিজেই ফেঁসে যেতে পারেন পরীমনি।
ঘটা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ সম্পর্কে প্রথম মুখ খুলেন পরিমনি। সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধও করেন। এরপর সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের সামনে কান্নাকাটি করে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তারপর তার অভিযোগের উপর ভিত্তি করে গ্রেফতার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন সহ ৫ জনকে। মিডিয়াপাড়া বেশ সরগরম হয়ে ওঠে। একে একে সবার সমানুভূতি অর্জন করতে সমর্থ হন পরীমনি। চলচ্চিত্র অভিনেতা অভিনেত্রীরা ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে পরীমনির পক্ষে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন। পরীমনি এসব পোস্ট তার ভেরিফাইড পেইজে শেয়ারও করেন। যার ফলে ঘটনার চর্চাও বেশি বেশি হতে থাকে।নেটিজেনরা পরীমনির পাশে অবস্থান নেওয়ায় পরিমনি বেশ ভালোভাবেই সব গুছিয়ে নিতে থাকেন। কারণ বেশিরভাগ জনমত তার পক্ষেই আছে। গ্রেফতারের পর নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নে অসামঞ্জস্য মূলক ব্যাখ্যা দিলে মামলার বিষয়টি পরীমনির পক্ষে চলে আসে। নাসির উদ্দিন যেসব তথ্য দিয়েছেন তা যে মিথ্যা তা যে কেউ শুনলেই বুঝতে পারবে। তাই মামলাটি পুরোপুরি পরিমনির অনুকূলে থাকবে তা একরকম নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু পুলিশের দেওয়া নতুন তথ্যে ঘটনার মোড় ঘুরতে শুরু করেছে। মামলাটিও পরীমনির হাত থেকে বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যেখানে মনে করা হচ্ছিল মামলার ফলাফল যাই হোক না কেন তা পরীমনির পক্ষেই থাকবে, সেখানে উল্টো ফেঁসে যেতে পারেন পরীমনি নিজেই। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার আগের দিন রাত ১টা ৫৫ মিনিটে পরীমনি পুলিশের জরুরী সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে তাকে অল কমিউনিটি ক্লাবে আটকে রাখার অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পাননি। উল্টো সেখানকার কর্মচারীরা পরীমনির বিরুদ্ধে তাদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ করেন। ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজে পরীমনিকে রাতে ক্লাবে ঢুকতে দেখা যায়। এক ঘন্টা পর পরীমনি ক্লাব থেকে বের হয়ে যান। ক্লাবের সভাপতি কে.এম. আলমগীর সাংবাদিকদের জানান ৮ ই জুন পরীমনি তাদের ক্লাবে ভাঙচুর এবং কর্মচারীদের মারধর করেন। তার ভাষ্যমতে পরীমনি তাদের ক্লাবের ১৫ টি গ্লাস এবং ৯ টি এ্যাশট্রে ভেঙেছেন। তবে এসব অভিযগ আমলে নেননি পরীমনি। তিনি বলেন এসব তথ্য মিথ্যা এবং মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতেই এসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি সবাইকে সত্য ঘটনা খুঁজে বের করার অনুরোধ করেন। এদিকে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান ৮ ই জুন রাতে পরীমনি ৯৯৯ এ কল দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের দুটি টিম অল কমিউনিটি ক্লাবে উপস্থিত হয়। কিন্তু তারা পরীমনির অভিযোগের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি। পক্ষান্তরে ক্লাবের স্টাফরা পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুর এবং হামলার অভিযোগ করেন। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার জানায় যদি ক্লাব কর্তৃপক্ষ পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করে তাহলে তারা এ ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। তিনি আরো বলেন যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তারা আবারো পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এখন দেখার বিষয় ঘটনাটি নিয়ে কেমন জলঘোলা হয় এবং পরীমনির দায়ের করা মামলার ফলাফল কি দাঁড়ায়।