রিয়াল-পিএসজির হার ফাইনালে এবার সিটি-চেলসি
রিয়াল-পিএসজির হার ফাইনালে এবার সিটি-চেলসি
গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে চেলসির মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ। ১ম লেগে ১-১ ড্র হওয়ায় এই ম্যাচে যে দল বিজয়ী হবে সেই দলই চলে যাবে ফাইনালে। তাই ম্যাচটা দুই দলের জন্যই বাচা মরার লড়াই ছিল। রিয়াল মাদ্রিদের ইনজুরি সমস্যা থাকলেও এই ম্যাচে তারা মোটামুটি পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামে। অন্যদিকে চেলসি মাঠে নামে তাদের তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে। ম্যাচটি শুরু হয় রাত ১টায়। ম্যাচ শুরুর ২৮ মিনিটে টিমো ওয়ার্নারের গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় চেলসি।
প্রথমার্ধের বাকি সময় আক্রমন করলেও আর কোন গোল করতে পারেনি কোন দলই। ১ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় চেলসি। ম্যাচের ২য় ভাগে এসে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু থিয়াগো সিলভাদের কাছে পরাস্ত হতে হয় তাদের। চেলসির গোলকিপার মেন্ডি বেশ কয়েকটি গোল রুখে দেয়। ৮৫ মিনিটের সময় চেলসির হয়ে ২য় গোল করে মাউন্ট। তাই নির্ধারিত সময় শেষে ২-০ গোলের জয় পায় চেলসি।
এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের বল পজিশন ছিল ৬৮% এবং চেলসির বল পজিশন ছিল ৩২%। চেলসি ৩২% থেকে ২ গোল করলেও ৬৮% নিয়ে মাদ্রিদ কোন গোল করতে পারেনি। যার ফলাফল সেমিফাইনাল থেকে জিদানের দলের বিদায়। চেলসির এই তরুণ দল নিয়ে তাদের কোচ টমাস টুখেল যা করছে তা সত্যিই অসাধারণ এবং প্রশংসার দাবিদার। ১ম লেগের মতো ২য় লেগেও অসাধারণ পারফর্ম করেছে কান্তে। ১ম এবং ২য় উভয় লেগেই ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছে কান্তে।
অন্যদিকে ৫ তারিখ রাত ১ টায় চ্যাম্পিয়নস লীগের ১ম সেমিফাইনালের ২য় লেগে মাঠে নেমেছিল দুই বড়লোক ক্লাব পিএসজি এবং ম্যানচেস্টার সিটি। প্রথম লেগে প্যারিস থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছিলো সিটি। তাই ফাইনালে উঠতে হলে পিএসজিকে কমপক্ষে ২ গোলের ব্যবধানের জয় প্রয়োজন ছিলো। পেপ গার্দিওলার সিটির বিপক্ষে ইতিহাদ স্টেডিয়াম থেকে ২ গোলের জয় ছিনিয়ে নেওয়া যে কোন দলের জন্যই কঠিন। তার উপর ইনজুরির জন্য স্কোয়াডে ছিলোনা এমবাপ্পে। তাই পিএসজি কোচ আনচেলোত্তির ভরসা ছিলো নেইমার, ডি-মারিয়াদের উপরই। এদিকে এদিন ইতিহাদের আবহাওয়াও ছিলো ফুটবল খেলার প্রতিকূল। মাঠ ছিলো বরফে ঢাকা।
ম্যাচ চলাকালে হয়েছে প্রচুর বস্টি। ম্যাচ শুরুর ৭ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় পিএসজি। কিন্তু ভার তা বাতিল করে দেয়। এরপর রিয়াদ মাহরেজের গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় সিটি।
প্রথমার্ধের খেলা আক্রমণ প্রতিয়াক্রমনের মধ্যে শেষ হলেও আর কোন গোল করতে পারেনি কো দলই। ৬৩ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের ২য় গোলে ২-০ যখন এগিয়ে যায় তখনই পিএসজির ফাইনালে উঠার সপ্ন প্রায় শেষ হয়ে যায়।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটের সময় মেজাজ হারিয়ে সিটির এক প্লেয়ারকে সাইড লাইনের বাইরে ইচ্ছাকৃতভাবে লাথি মারায় লাল কার্ড় দেখে মাঠ ছাড়ে ডি-মারিয়া। ১০ জনের দল নিয়েই পিএসজি খেলতে থাকে আক্রমনাত্মক মানসিকতা নিয়ে।
খারাপ আবহাওয়ার দরুন এই মাঠে খেলা বেশ কঠিনই ছিলো প্লেয়ারদের জন্য। কিন্তু সিটির ডিফেন্স এই খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও একদম সলিড পারফরম্যান্স দিয়েছে। যার কারণে পিএসজির প্রত্যেকটি শট তারা খুব দক্ষতার সাথে ব্লক করতে পেরেছে। শেষর দিকে নেইমার কয়েকটি আক্রমণ করলেও সিটির ডিফেন্ডারদের দক্ষতার কারনে সেগুলো জালের মুখ দেখেনি। ৯০ মিনিট শেষ হবার পর পিএসজি হেরে যায় ২-০ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ব্যাবধান দাড়ায় ৪-১। এই জয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের ৫১ বছরের ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে উঠলো। সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা কোচ হিসেবে ২০১১ সালে সর্বশেষ বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারও গার্দিওলা ফাইনালে উঠলো। এবার তার দল ম্যানচেস্টার সিটি। বার্সেলোনাকে তিনি ২০১১ সালে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন। এবার দেখা যাক ২০২১ সালের ফাইনাল জিতে সিটিকে চ্যাম্পিয়ন বানাতে পারেন কিনা।ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ পরিচিত দল চেলসি।
Writer: MD. Nahid Hasan
Editor: MD. Zihad Khan







